মাছের আঁশ রপ্তানির ব্যবসা/ Fish scale export business

আমরা সাধারণত মাছের আঁশকে উচ্ছিষ্ট বা বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করে ফেলে দিয়ে থাকি। তবে আমরা হয়তো জানি না যে এই আঁশ এখন দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে সাহায্য করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মাছের আঁশ রপ্তানি করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এই ব্যবসার সাথে জড়িত অনেক মাছ ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। মাছের আঁশগুলি প্রায়শই মাছ ধরার শিল্পের একটি উপ-পণ্য হিসাবে বিবেচিত হয়, তবে প্রসাধনী, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ফ্যাশন সহ বিভিন্ন শিল্পে এর বিভিন্ন ধরণের ব্যবহার রয়েছে।

মাছের আঁশের ব্যবহার সম্পর্কে ধারণাঃ

মাছের আঁশের সবচেয়ে সাধারণ ব্যবহার হল প্রসাধনী তৈরি করা, বিশেষ করে ত্বকের যত্নের পণ্যগুলির ক্ষেত্রে। মাছের আঁশে কোলাজেন থাকে, যা একটি প্রোটিন। যা ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য পরিচিত এবং সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করতে পারে। আঁশগুলি সাধারণত একটি পাউডার বা জেলে প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যা পরে বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য যেমন লোশন, ক্রিম এবং সিরামগুলিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও ঔষধ শিল্পে এর ব্যবহার করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে মাছের আঁশে বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ রয়েছে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। যা বিভিন্ন চিকিৎসা ব্যবসায় কার্যকর হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মাছের আঁশের নির্যাস ডায়াবেটিসের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবে কাজ করে বলে খোঁজ পাওয়া গেছে। কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে।এছাড়াও ফ্যাশন শিল্পে মাছের আঁশ ব্যবহার করা যেতে পারে। এর থেকে তৈরিকৃত জুয়েলারী এবং আনুষাঙ্গিক সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ তারা চামড়া এবং প্লাস্টিকের মতো ঐতিহ্যবাহী উপকরণগুলির একটি অনন্য এবং টেকসই বিকল্প হিসেবে দাবী করে।  

যেভাবে এই কাজ করা হয়ঃ

পরিসংখ্যান বলছে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার বেশি মাছের আঁশ রপ্তনি করা হচ্ছে। মাছ বাজারগুলোর বটি ওয়ালারা ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন এ আঁশ। তারপর এক থেকে দুই মাধ্যম ঘুরে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে জাপান, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে। যশোরে মাছের আঁশের চাহিদা এখন অনেক বেশি। বড় বাজারে নিয়মিত মাছ কাটতে বটি ওয়ালারা প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা করে নেন। এর বাইরে মাছের আঁশ বিক্রি করে বছরে কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা বাড়তি আয় করে থাকেন। শুধু বড় বাজার নয়, আশপাশের সব বাজারের বটি ওয়ালারা মাছের নাড়িভুড়ি ও আঁশ বিক্রি করে থাকেন। এরপর এই সংগৃহীত আঁশ চট্টগ্রাম এর আড়তদাররা বিদেশে রপ্তানি করেন। রপ্তানি করার জন্য আগে অবশ্যই এর জন্য পর্যাপ্ত লাইসেন্স করিয়ে নিতে হবে। এবং অনুমোদন সহ অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। পর্যাপ্ত আইনানুগ অনুমতি না থাকলে পরবর্তীতে অনেক ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। সামগ্রিকভাবে, মাছ ধরার শিল্পের সাথে জড়িতদের জন্য মাছের আঁশ রপ্তানি একটি লাভজনক ব্যবসা বলে বিবেচিত হতে পারে, কারণ তাদের বিভিন্ন শিল্পে মূল্যবান ব্যবহার রয়েছে। এর জন্য এটা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ যে আঁশগুলো টেকসইভাবে কাটা হয় এবং এই শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য সঠিক নিয়ম ও নির্দেশিকা অনুসরণ করা হয়।

আয়ঃ

বর্তমান বাজারে কোন জিনিসই ফেলনা নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ফেলে দেওয়া এমন অনেক উপাদানগুলো দ্বারা আমরা উপকৃত হতে পারি। তার মধ্যে মাছের আঁশ একটি। মাছের আঁশ অনেক উপকারি বলে বিবেচিত হওয়ায় এর রপ্তানি করার আইডিয়া মন্দ নয়। এই ব্যবসা করার মাধ্যমে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা সম্ভব। আর ব্যক্তিগত ভাবেও অনেক লাভবান হওয়া যাবে।

শুভ কামনা রইল।

Fish scale export business

Introduction:

We usually discard fish scales as scrap or waste. But we may not know that this fiber is now helping to bring in foreign currency in the country. Currently, the trend of exporting fish scales to Bangladesh is increasing day by day. Many fishmongers involved in this business have smiles on their faces. Fish scales are often considered a by-product of the fishing industry, but have a variety of uses in various industries, including cosmetics, pharmaceuticals, and fashion.

Concept of use of fish fiber:

The most common use of fish scales is in the manufacture of cosmetics, especially skin care products. Fish fibers contain collagen, which is a protein. Which is known to improve skin health and can help reduce fine lines and wrinkles. The fibers are usually processed into a powder or gel, which is then used in various cosmetic products such as lotions, creams and serums. It can also be used in the pharmaceutical industry. Studies have shown that fish fibers contain bioactive compounds that have antioxidant and anti-inflammatory properties. Which can be useful in various medical business. For example, fish fiber extract has been found to work as a natural remedy for diabetes. Because it can help control blood sugar levels. Fish scales can also be used in the fashion industry. Jewelery and accessories made from it have become increasingly popular in recent years, as they claim to be a unique and sustainable alternative to traditional materials such as leather and plastic.

How this is done:

Statistics show that fish scales worth more than Taka 200 crore are being exported to Bangladesh every year. The boat owners of the fish markets are selling this fish at the rate of 15 to 20 taka per kg. Then it goes to countries like Japan, China, Indonesia, Philippines, Thailand, South Korea for processing through one to two mediums. The demand for fish scales in Jessore is now very high. Boat owners charge take 10 to 15 per kg to cut fish regularly in the big market. Apart from this, he earns at least 20 thousand rupees annually by selling fish scales. Not only the big bazaar, but the stall holders of all the surrounding bazaars are selling fish flakes and scales. Then these collected fibers were exported abroad by the merchants of Chittagong. Adequate licenses must be obtained before exporting. And permission must be accepted with approval. Not having adequate legal permission can lead to many kinds of problems later on. Overall, the export of fish scales can be considered a profitable business for those involved in the fishing industry, as they have valuable uses in various industries. For this it is important to ensure that the fibers are harvested sustainably and that proper regulations and guidelines are followed to ensure the long-term viability of the industry.

Income:

In today’s market nothing is wastage. We can benefit from many of the ingredients that are thrown into our daily lives. Fish scales are one of them. The idea of exporting fish scales is not bad as it is considered very beneficial. It is possible to bring huge foreign currency to the country by doing this business. And you can get a lot of personal benefits.